আল মামুন

কমিউনিটি রেডিও : শিক্ষক শিখলেন সাফল্যের সংজ্ঞা

কমিউনিটি রেডিও : শিক্ষক শিখলেন সাফল্যের সংজ্ঞা

আল মামুন
অভাবের সংসার। দুই ছেলে-মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে ঠিকমত তিন বেলা খেতে পারেন না। পারেন না ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে। এমনাবস্থায় কিছু একটা করতে হবে— এই ভাবনা থেকে দুই জোড়া কবুতর পালন শুরু করেন। দুই জোড়া থেকে বেড়ে এক সময় তার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০ জোড়ায়। আর ৩০০ টাকা থেকে আয় বেড়ে হয় ৪০ হাজার টাকা। নিজেদের সংসারের চাহিদা তো মিটছেই পাশাপাশি হয়েছেন স্বাবলম্বী।
বরগুনার ৫ নং আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়েনের উত্তর ইটবাড়িয়া গ্রামের লাইলী বেগমের এই সফলতার গল্প প্রচারিত হয় লোকবেতারে। আর এই গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হন কড়ই বাড়িয়া দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মোজাম্মেল হক। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন লোকবেতারে। চেয়ে নেন সফল নারী উদ্যোক্তা লাইলী বেগমের মোবাইল নাম্বার। তারপর কথা বলেন তার সঙ্গে, আর শিখে নেন সফলতার সংজ্ঞা। এরপর একদিন সময় করে ঘুরে দেখেও আসেন লাইলী বেগমের তিলতিল করে গড়ে তোলা‘কবুতর-গ্রাম’। তবে তিনি একা নন, সঙ্গে নিয়ে যান আরো কয়েকজন বেকার যুবককে।
লাইলী বেগমের কবুতর পালন দেখে নিজেও এমন খামার করার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী মোজাম্মেল হক বলেন, কবুতর পোষা যে নিছক শখ নয় সেটা প্রমাণ করলেন লাইলী বেগম। পেশা হিসেবে নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়াযায় এমনই উদাহরণ সৃষ্টি করলেন তিনি। ওনার কবুতর পালন বেশ প্রশংসনীয়। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
ভালো লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবুতর পালন করার জন্য অতিরিক্ত বা বাহুল্য কোন খরচ হয় না। বাড়তি ঝামেলা নেই তাছাড়া কম পুঁজিতেই কবুতর পালন শুরুকরে বেশি লাভবান হওয়া যায়, সময়ও কম লাগে। কবুতরকে সহজেই পোষ মানানো যায়। বাড়ির যেকোন কোণ বা আঙিনা অথবা বাড়ির ছাদ কিংবা কার্নিশের মত ছোট বা অল্প জায়গাতেও কবুতর পালন করা যায়। এমনকি ছাদের সাথে ঝুড়ি ঝুলিয়েও কবুতর পালন করা যায়।
তিনি জানান, কবুতর লালন-পালনের খরচ খুব একটা নেই। এমনকি কবুতরের রোগ ব্যাধিও কমহয়। কবুতরের থাকার জায়গা নির্বাচনে ও অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়না। এই কারণে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কবুতর পালন অবশ্যই লাভজনক।
কমিউনিটি রেডিও লোকবেতারের ভূয়সী প্রশংসা করে মোজাম্মেল হক বলেন, লোকবেতারের মত এরকমের একটা মাধ্যম না থাকলে হয়তো এমন সফলতার কথা জানতেই পারতাম না কোনোদিন! এমন উন্নয়ন সংবাদপ্রচার কর্মবিমুখ যুবকদের কাজ করতে উৎসাহ যোগাবে। লাইলী বেগমের স্বাবলম্বী হওয়ার সংবাদ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি লোকবেতার শুনতাম না। মাস তিনেক আগে থেকেশোনা শুরু করেছি। এখন এইটা নিয়মিতই শুনি। লোকবেতারের কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে অনেক কষ্ট করে এসব উন্নয়নমূলক সংবাদ সংগ্রহ করে প্রচার করে যা তরুণ সমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে উদ্ধুদ্ধ করবে এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *