আল মামুন

কমিউনিটি রেডিও : ‘বাচ্চা ডেলিভারি করাইতে ক্লিনিকে যাইতে হয়’

কমিউনিটি রেডিও : ‘বাচ্চা ডেলিভারি করাইতে ক্লিনিকে যাইতে হয়’

আল মামুন

একটা বাচ্চা হইছেলে। বাচ্চাটা বাড়ি বইসা হইছেলে। দুইদিন আছেলে। আমার ইচ্ছা আছেলে আমি ক্লিনিকে যাবো বাচ্চা ডেলিভারি করাইতে কিন্তু হঠাৎ ব্যথা উইঠ্যা বাচ্চা হইছে। আমার স্বামী বাড়িতে আছেলে না, খালা শ্বাশুড়িরে ডাকছিলাম। বাচ্চা জন্মের পর দুইদিন আছেলে। পরে বাচ্চাটা মারা গ্যাছে। কথাগুলো বলতে বলতে কণ্ঠভারি হয়ে ওঠে বরগুনা সদর উপজেলার ৫নং আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়েনের রেশমা বেগমের।

প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়া এই নারী জানতেন না গর্ভবর্তী অবস্থায় একজন গর্ভবর্তী মায়ের করণীয় কী কিংবা একটি সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে হলে কী করতে হবে। বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক রেশমাই আছেন যারা সুস্থ সন্তান দিতে পারেন না।

রেশমা বলেন, আমরা তো হারা জীবন দেইখ্যা আইছি বাচ্চা ডেলিভারি করায় দাইমারা। এতে কেউ মারা যায় কেউ বাইচ্চা থাহে। কিন্তু আমার জানা আছেলে নাযে আমার ক্লিনিকে বা হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

গ্রামীণ সমাজে যুগযুগ ধরে এমন রীতি চলে এসেছে যে বাচ্চা প্রসব করাতে হবে বাড়িতে। আর তাতে সহায়তা করবেন মা-খালারা বা দাইমারা। কিন্তু এভাবে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অনেক শিশুই প্রাণ হারান। প্রাণ হারান অনেক মাও।

কমিউনিটি রেডিও লোকবেতার প্রত্যন্ত এলাকার পিছিয়ে পড়া অশিক্ষিত অসচেতন নারীদের সহায়তা করতে ‘সুস্থ মা সুস্থশিশু’ নামে একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। এই অনুষ্ঠান শুনে গ্রামের পিছিয়েপড়া নারীরা জানতে পারছেন গর্ভবর্তীকালীন একজন কী করণীয় কিংবা তাকে কখন ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় বরগুনা সদও উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের তারা বানুর সাথে। তিনি বলেন, আমি ক্লিনিকে গেছিলাম। তাছাড়া অসুস্থ হওনের পর থেইক্যাই আমি ক্লিনিকে যোগাযোগ রাখছি।

অনেকেই তো বাচ্চা বাড়িতে ডেলিভারি করায়, আপনি কেনো ক্লিনিকে গেলেন জানতে চাইলে তারাবানু রেশমার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, লোকবেতার আছে না? হেই লোকবেতার শুইন্যা শিকছি বাচ্চা ডেলিভারি করতে হইলে কি করতে হয়। এহানে এক অনুষ্ঠানে কইলো বাড়িতে বাচ্চা ডেলিভারি করানো ঝুঁকিপূর্ণ। মারাও যাইতে পারে।

তিনি বলেন, আমি সব সময় চাইছি আমার বাচ্চাডা সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসুক। এইডা বাড়িতে হইলে হয়তো সম্ভবনাও হইতে পারতো। তাই আমার মা আমারে নিয়া ক্লিনিকে গ্যাছে।

আমাদের সমাজে আজও অসচেতনতা, কুসংস্কার ধর্মান্ধতা ও পরিবারের অভিভাবকেদের কারণে গ্রামের অদক্ষ দাইমারা অনিরাপদ পরিবেশে বাড়িতে সন্তান প্রসব করাচ্ছে। এসব কারণে প্রসবকালীন জটিলতার কারণে অনেক মাও শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। মাও শিশুর প্রয়োজনীয় জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাই এখনো আমাদের দেশে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ৩২জন নবজাতক মারা যাচ্ছে।

গণমানুষের অংশগ্রহণ কমিউনিটি রেডিওর একটি বড় বৈশিষ্ট্য এবং লক্ষ্য। গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য ও জ্ঞান বিতরণের জন্য কমিউনিটি রেডিও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *