আল মামুন

দ্রুত ঘটছে করোনার বিস্তার, মোকাবিলায় সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি

দ্রুত ঘটছে করোনার বিস্তার, মোকাবিলায় সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি

চিনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি ঘটে করোনাভাইরাসের। এরপর এটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও দ্রুত করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঘটে চলেছে। দেশের অনেক এলাকা লকডাউন ও বহুল প্রচারের মধ্যেই মূলত ঢাকাকে কেন্দ্র করে মহামারি করোনার বিস্তৃতি হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। দেশের চিত্র প্রতিদিনই অবনতি হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, রাজধানী ঢাকার বস্তি, বিহারি ক্যাম্প এবং ঘন বসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রোগী বাড়তে থাকলে ঢাকায় ‘গণসংক্রমণ’ ঘটতে পারে।
এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে গেলো বৃহস্পতিবার দেশব্যাপি করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে গোটা দেশকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি জেলায় করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের এই গতি দৃশ্যত অপ্রতিরোধ্য মনে হলেও আমাদের হাল ছেড়ে দিয়ে সংক্রমণের বিস্তার চেয়ে চেয়ে দেখার কোনো কারণ ঘটেনি। কোনো জেলা কিংবা উপজেলায় একটি বা দুটি বাড়িতে একজন বা দুজন ব্যক্তির সংক্রমণ শনাক্ত হলেই ওই পুরো জনপদে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে না। করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিকে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসা দেওয়া এবং তিনি যে বাড়িতে বসবাস করছেন, সেই বাড়িটা আশপাশের অন্যসব বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে ওই বাড়ি থেকে সংক্রমণ অন্যত্র ছড়ানোর আশঙ্কা রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রাণঘাতি এই করোনা ভাইরাস রোধের একমাত্র উপায়ই হলো মানুষের সংস্পর্শ এড়ানো। সে জন্য সরকার বাড়িতে থাকা নিশ্চিতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়োজিত করেছে ইতিমধ্যে। দরিদ্রদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ারও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও মানুষ এতোটা সচেতন হয়নি বা করা যায়নি। কিন্তু এর মাঝেও হতাশাজনক খবর হচ্ছে, সরকারি ত্রাণের চাল ও তেল চুরির মতো হীন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তো রয়েছেই।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা না গেলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা আদৌ সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে ঘরে থাকতে বাধ্য করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের উচিত ঘরে থাকা মানুষকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *