আল মামুন

ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুলের ‘৯০ শতাংশ’

ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুলের ‘৯০ শতাংশ’

আল মামুন
বাংলাদেশের রাজনীতির দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব— একজন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আরেকজন দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুজনে একদিনের ব্যবধানে পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ করে দুটি তথ্য প্রকাশ করলেন জাতির সামনে।

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বুধবার (১ জানুয়ারি) এক ছাত্র সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, রাস্তার মধ্যে ১০০ জন লোককে জিজ্ঞাস করুন, এর মধ্যে ৯০ জন লোক বলবে যে— আমি এই সরকার চাই না। ভুল বলেছি?’
তিনি এমন তথ্য দিয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি— ‘ভুল বলেছি?’ বলে প্রশ্ন করে নেতাকর্মীদের সমর্থন নিতে চান, যেনো তারা সবাই একবাক্যে বলেন—  ‘আপনার প্রকাশিত তথ্যই ১০০ ভাগ সঠিক।’
এর একদিন পর বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘ত্রাণ সমন্বয়ের’ বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেতিবাচক রাজনীতির জন্য ৯০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে চায় না। এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এটা ৯১-৯২ হতে হতে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।’
আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকও নিশ্চিত যে তার ‘জরিপের’ তথ্যই সঠিক।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- রাজনীতির শীর্ষ দুই ব্যক্তি এই যে ‘৯০’ বিষয়ক একটি তথ্য প্রকাশ করলেন, এর ভিত্তি কী? তারা কোথায় পেলেন এমন সংখ্যা-তথ্য? তাদের দুজনেরই এই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত তথ্য কতটা বাস্তবসম্মত?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বা কীভাবে বুঝলেন— দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ এই সরকারকে চায় না, আর ওবায়দুল কাদেরই বা কীভাবে বুঝলেন— দেশের ৯০ শতাংশ মানুষই বিএনপিকে পছন্দ করে না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনোদিনও জানা যাবে না। কিন্তু দুজন শীর্ষব্যক্তির কাছ থেকে এমন ‘ভিত্তিহীন’ তথ্যও আশা করা যায় না। সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বপূর্ণ কথা শুনতে চান।
অনুমান করে অনেক কিছুই বলা যায়। মাঝে মাঝে কিছু কিছু অনুমাননির্ভর কথার সত্যতা হয়তো মেলে, তবে সব অনুমাননির্ভর কথা সত্য হয় না। অনুমনানির্ভর কিছু একটা বলে দিলেই হয় না, এতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়, সাধারণ মানুষ এটাকে হাস্যকর মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *