আল মামুন

সমৃদ্ধির পথে অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশের জয়যাত্রা

সমৃদ্ধির পথে অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশের জয়যাত্রা

আল মামুন
মহাকালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেল আরও একটি বছর-২০১৯। এ বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করে নিয়েছে ২০২০ সালকে।
সারা বিশ্বের মানুষ রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষ ২০২০ সালকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় নতুন ইংরেজি বছর।
একটি বছর পেরিয়ে ১ জানুয়ারি ভোর বেলা উদিত হলো নতুন বছরের প্রথম সূর্য। নতুন বছর মানে নতুন সম্ভাবনা। নতুন কিছু পাওয়ার আশা; নতুন কিছু করার প্রত্যয়; নতুন কিছু চাওয়ার ইচ্ছা।
২০১৯ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জনের বছর। এ বছর রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি, জঙ্গি দমন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ আশাতীত সাফল্য অর্জনসহ মধ্যম আয়ের দেশে এগিয়ে যাওয়ার পথে উন্নীত হয়েছে।
এ বছর বিশ্ব সূচকেও বাংলাদেশের অনেক সাফল্য এসেছে। এছাড়াও রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে আমাদের অর্জন নেহাত কম নয়। অর্থনীতি এবং সামাজিক খাতে আমাদের নজরকাড়া উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এসব খাতে আমরা পাকিস্তানকে ছাপিয়ে এগিয়ে চলেছি।
এমনকি ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকেও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি সন্তুষ্টিজনক। তবে পাশাপাশি এটাও সত্য, মুক্তিযুদ্ধের অনেক লক্ষ্য এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে।
এ বছরটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ, আর সেটি হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। নতুন বছরটি সরকারকর্তৃক আগেই মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এই বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী সাড়ম্বরে পালনে বছরব্যাপী কর্মসূচি রয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়নের ধাপ পেরিয়ে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। দেশ আজ অর্থনীতিতে তো বটেই, সামাজিক সূচকেও অগ্রগতির দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। তবে এরও মধ্যে বাস্তবতা যে, বিগত বছরটিতে অর্থনীতির অনেক সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
তবে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হারে বাড়লেও এ বছর প্রত্যাশিত হারে বিনিয়োগ বাড়েনি। ফলে কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়নি।
শেয়ারবাজার যথারীতি পতনোন্মুখ অবস্থাতেই ছিল। সমাজে ব্যাপক অবক্ষয় অব্যাহত ছিল। হত্যা-ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনা যথারীতি ঘটেছে। পেঁয়াজকাণ্ডসহ নিত্যপণ্যের বাজার মোটেই সুস্থির ছিল না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাম টানা সম্ভব হয়নি এ বছর। তবে বছরের আলোচিত ঘটনার মধ্যে ছিল সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ছিল একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানও ছিল বছরের আলোচিত ঘটনা।
কিন্তু সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জনগণের সমর্থন পেলেও কার্যত তা থমকে যায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে— এটা স্বস্তিকর।
খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, দেশে বিপুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শুধু অর্থনীতি নয়, দেশের খেলাধুলা, বিনোদন, সংগীত-চলচ্চিত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষণীয়।
নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক অর্জন। ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছে।
তবে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমাদের যথেষ্ট করণীয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই উন্নয়নের সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। মুক্তচিন্তা ও সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারকর্তৃক ঘোষিত মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
ধর্ম-বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে একই কাতারে মিলিত হতে পারলে, তবেই অর্থবহ উন্নয়ন সম্ভব হবে। মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা পরিগণিত হব- এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন বছরের। নতুন বছর অর্জন আর প্রাচুর্যের, সৃষ্টি আর কল্যাণে ভরে উঠুক এবং সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি-মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা করছি।
নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ— খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশাই করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *