আল মামুন

‘অগ্নি’র স্বার্থে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

‘অগ্নি’র স্বার্থে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

১৯৯৮ সালের ১৫ মার্চ মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী একবার ড. কালামকে ফোন করলেন। ফোন করে জানালেন— তাঁর কেবিনেটের মন্ত্রীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন, একইসঙ্গে তাঁকে (ড. কালামকে) এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করতে চান। কিন্তু ড. কালাম তাৎক্ষণিক কিছু না বলে প্রধানমন্ত্রীকে বললেন— ‘বাজপেয়িজী, এ বিষয়ে আমার ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। আমি আপনাকে পড়ে জানাতে পারবো।’

এরপর বাজপেয়ী তাকে পরদিন সকাল ৯টায় দেখা করতে বললেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় যোগদান করা ঠিক হবে কি না— বিষয়টি নিয়ে ড. কালাম ওইদিন রাতেই তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। যে আলোচনা চলে রাত ৩টা পর্যন্ত। আলোচনায় সবাই একটা বিষয়ে একমত হলো যে, ড. কালাম জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দুটো মিশনের সাথে পুরোপুরিভাবে সম্পৃক্ত সেগুলো চূড়ান্ত সফলতার মুখ দেখার অপেক্ষায় আছে। সেগুলো ত্যাগ করে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করা উচিত হবে না।

যথারীতি পরদিন সকালে ড. কালাম ৭ সফদারজং রোডে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গেলেন। ড্রয়িংরুমে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তাঁকে বাড়ির তৈরি মিষ্টি খেতে দেওয়া হয়। মিষ্টি খেতে খেতে আলোচনা চলতে থাকে তাঁদের। ড. কালাম বাজপেয়ীকে বলেন— ‘আমি আমার দলবল নিয়ে দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে ব্যস্ত আছি। একটা হলো অগ্নি মিসাইল সিস্টেম আর অন্যটি হলো ডিএই (ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাটমিক এনার্জি) এর অংশীদারিত্বে নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের সফল রুপায়ন ঘটানো সম্পর্কিত। আমি মনে করি এই দুটো প্রোগ্রামের সাথে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থেকে আমি জাতির জন্য অনেক কিছু দান করতে পারবো।’ এরপর তিনি বিনীতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন— ‘বাজপেয়িজী, আমাকে অনুগ্রহ করে ওই কাজগুলো চালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেবেন।’

ভারতকে এগিয়ে নিতে বা জাতির উন্নয়নে ড. কালামের কাজের প্রতি এই একাগ্রতা এবং ভালোবাসা এটা বাজপেয়ী বুঝতে পারেন। তিনি তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেন— ‘তোমার কথার মধ্যে সামনে এগিয়ে যাবার অভিব্যক্তি আমি উপলব্ধি করতে পারছি। ঈশ্বর তোমার সহায় হোন।’

ড. কালাম তাঁর ‘টার্নি পয়েন্টস্’ বইয়ে লেখেন— ‘অগ্নি মিসাইল সিস্টেম থেকে পাঁচ পাঁচটা নিউক্লিয়ার টেস্ট করার ফলে ভারত এখন নিউক্লিয়ার অস্ত্রের অধিকারী দেশ। মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকার করার ফলে আমি দুটো বৃহৎ কাজ করতে পেরেছি যা জাতি বিশাল ফল লাভের অধিকারী হয়েছে।’

তখন হয়তো ড. কালাম ভারতের একজন মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন, কিন্তু তাঁর জন্য যে আরো বড় কিছু অপেক্ষা করছে সেটা কেউ কি তখন জানতো! নিজের কাজকে ভালেবেসে দেশকে উন্নতির শিখরে নেওয়া যাওয়ার লক্ষ্য যার সে শুধু মন্ত্রীত্ব নন— একদিন প্রস্তাব পেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার। তখন তাঁর হাতে সময় ছিলো অনেক, তাই তিনি হয়েও ছিলেন রাষ্ট্রপতি।

চলবে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *