আল মামুন

সাধারণ জীবন যাপন করা অসাধারণ একজন মানুষ

সাধারণ জীবন যাপন করা অসাধারণ একজন মানুষ

রামেশ্বরমের অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ড. কালাম জীবনের একটি পর্যায়ে এসে ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি তো একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর লাইফস্টাইল হওয়ার কথা ছিলো খুব রাজকীয়। তা সত্ত্বেও ড. কালাম খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। মিশেছেন সর্বস্তরের মানুষের সাথে। অতি দরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে এসে ভারতের মতো বৃহৎ একটি রাষ্ট্রের সেরা বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তিনি তিনি খুব বিলাসী জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

তাঁর পোশাক-আষাকেও তেমন কোনো চাকচিক্যময় ছিলো না। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে স্যুট-টাইও পরতেন না। তাঁর চুল আচড়ানোর ধরণও ছিলো খুব সাধারণ। একবার এক শিক্ষার্থী চুল আচড়ানোর এমন ভঙ্গিমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন— ‘ছোটবেলা থেকেই আমার চুলটা একটু অন্যরকম, এলোমেলো ধাঁচের ছিলো। পরিপাটি করে রাখাটা বেশ কষ্টের ছিলো। পরিপাটি করে রাখার নানা কৌশল প্রয়োগ করতে করতে একবার ভাবলাম, এইভাবে কাটলে বা এইভাবে আচড়ালে কেমন হয়? দেখলাম চুলটা এভাবেই সবচেয়ে পরিপাটি থাকে! ব্যস, সেই থেকে এটাই চুলের স্টাইল হয়ে গেল।’ একথা বলেই লাজুক হাসি দেন ড. কালাম।

ভারতের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই অকৃতদার প্রথিতযশা অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী বছরের পর বছর এক কামরাবিশিষ্ট বাড়িতে বসবাস করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. কালাম ছিলেন অবিবাহিত। এত প্রতিভা এত খ্যাতির অধিকারী হয়েও খুব সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতে তিনি। দারুণ সাদাসিধে টাইপের মানুষ ড. কালাম কাজের ভারে বিয়ে করার সময় মেলাতে পারেননি। এই সাদাসিধে গোবেচারা টাইপের মানুষটি জীবনের আনন্দ খুঁজেছিলেন কাজের মাঝে। কাজই তাঁকে অমর করে রেখেছে।

ড. কালাম খুবই আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। যে রাজ্যে তিনি গিয়েছেন, সে রাজ্যকেই তিনি সুশোভিত করেছেন জ্ঞানের আলোয়। তাই তো তাঁর অবদানকে আরো তাৎপর্যমণ্ডিত করতে তিনি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন নিজের চিন্তাচেতনার কথা। তরুণদের মনে দারুণভাবে দাগ কেটেছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানের এই মহীরুহ।

ড. কালামের ব্যক্তিগত ধন-সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই ছিলো না। কখনো এসবের প্রতি আকৃষ্টও হননি। ইচ্ছে করলে তিনি তাঁর অবস্থান থেকে ধন-সম্পত্তির পাহাড় গড়তে পারতেন। কিন্তু সেই পথে তিনি হাঁটেননি। তিনি খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। তবে তিনি ধন সম্পদ অর্জনকে খাটো করে দেখতেন না, সম্পদ অর্জনের প্রশংসা করতেন।

সে কথা তিনি তাঁর আত্মজীবনীতেও বলেছেন— ‘সম্পদ ও প্রজ্ঞা লাভের আকাঙ্খা করা, জাগতিক ধনসম্পত্তি অর্জনের চেষ্টা করা ভুল— এ কথা আমি বিশ্বাস করিনা। যদিও আমি খুব স্বল্প পরিমাণ সম্পদ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছি।’

ড. কালাম মনে করতেন সম্পদ জাতির নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এবং স্বভাবিকভাবেই এই অর্জিত সম্পদ দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়তা করে।

চলবে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *