আল মামুন

শৈশবেই অসাম্প্রদায়িকতার পাঠ

শৈশবেই অসাম্প্রদায়িকতার পাঠ

ড. এ পি জে আবদুল কালাম এক জীবন্ত ইতিহাস; অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক চমৎকার মানুষের প্রতিচ্ছবি। একজন মানুষ কীভাবে শূন্য থেকে মহাশূন্যে উঠতে পারে তার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলেন তিনি। জীবনে বারবার হেরে গিয়েও জিতেছেন, মনোবল হারাননি শিশুর মত কোমল হৃদয়ের অধিকারী অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই মানুষটি। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ছিলো তার কাছে সমান মর্যাদার। তাই তো ব্যাপকভাবে মিশেছেন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে। আর এই মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া—অসাম্প্রদায়িক চেতনার বীজ তাঁর ভেতরে রোপিত হয়েছিলো শৈশবেই।

ড. কালাম যে এলাকাটিতে জন্মেছিলেন সেটা ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত। তবে কয়েকটি হিন্দু পরিবারও বসবাস করতো ওই গ্রামে। মুসলমান প্রতিবেশিদের সাথে তারা শান্তি আর বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বসবাস করতেন। ড. কালামের বাসা থেকে পায়ে হেঁটে বিখ্যাত শিবমন্দির হেঁটে যেতে সময় লাগতো মিনিট দশেক। তাদের এলাকায় একটি মসজিদও ছিলো, বেশ পুরোনো। সন্ধ্যায় বাবার সাথে সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন ড. কালাম। শিবমন্দিরের পুরোহিত পক্ষি লখমানা শাস্ত্রী ড. কালামের বাবার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করতেন।

বড় হবার পর প্রার্থনার প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ড. কালাম তাঁর বাবার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন— ‘প্রার্থনার মধ্যে রহস্যের কিছু নেই। বরং প্রার্থনা মানুষের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানকে সম্ভব করে তোলে। যখন তুমি প্রার্থনা করবে তখন তুমি তোমার দেহকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বব্রহ্মান্ডের একটি অংশে পরিণত হবে যা, সম্পদ, বয়স, বর্ণ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভেদাভেদ মানে না।’

এই দুজনকে নিয়ে ড. কালামের শৈশবের এটি একটি উজ্জল স্মৃতি। তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে অসাম্প্রদায়িকতার এই যে শিক্ষাটা পেয়েছিলেন এটা তিনি সারা জীবন ধারণ করেছেন। যার কারণে তিনি ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

চলবে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *