আল মামুন

পুরস্কার ও সম্মাননা

পুরস্কার ও সম্মাননা

রামেশ্বরমের দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটি দিনে দিনে বড় হয়ে ওঠে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নিজেকে সঁপে দেন। এই শিশুটি তাঁর মেধা, মনন, চিন্তাচেতনা, অধ্যাবসায়, উদ্দীপনা, অভিজ্ঞতা, সততা আর চরিত্রের দৃঢ়তার বলে সাফল্যের উচ্চশিখরে আরোহণ করতে সমর্থ হন। একটু একটু করে নিজেকে একটা মহীরূহে পরিণত করেন। তার স্বীকৃতিও তিনি পান জীবদ্দশায়।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ড. কালামকে ভারত সরকার ২০১৩ সালে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘ভারতরত্নে’ ভূষিত করে। আইএসআরও ও ডিআরপিও-তে বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৯০ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ১৯৮১ সালে ‘পদ্মভূষণ’ নামের মর্যাদাবান আরো দুটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁকে। ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি থেকে বোন বরুণ অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে অসামান্য অবদানের জন্য ড. কালামকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অব ইনডিয়া’ উপাধি দেয়া হয়। তিনি ‘মিসাইল ম্যান’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন।

২০০৫ সালে ২৬ মে সুইজারল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন ড. কালাম। তাঁর আগমনের দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে দেশটি ওই দিনকে ‘বিজ্ঞান দিবস’ ঘোষণা করে। ড. কালামের ৭৯তম জন্মদিনকে বিশ্বজুড়ে ‘ছাত্র দিবস’ হিসেবে পালন করে জাতিসংঘ। এছাড়া ২০০৩ ও ২০০৬ সালে ওই বছরের ‘এমটিভি ইয়ুথ আইকন’র জন্য মনোনয়ন পান তিনি।
জাতীয় ঐক্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে তাকে ইন্দিরা গান্ধী সম্মাননা দেয়া হয়। পরের বছর ভারত সরকার ড. কালামকে বীর সভাকর সম্মাননা দেয়।

চেন্নাইয়ের আলোয়ার রিসার্চ সেন্টার ২০০০ সালে তাকে রামানুজন সম্মাননায় ভূষিত করে। ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি তাকে রাজা দ্বিতীয় চার্লস মেডাল দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ২০০৯ সালে তাকে ইন্টারন্যাশনাল ভন কারমান উইংস সম্মাননা দেয়। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের এএসএমই ফাউন্ডেশন ড. কালামকে হুভার মেডাল দিয়ে সম্মানিত করে। বিশ্বে পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আইইইই ২০১১ সালে সম্মানসূচক সদস্যপদ দেয়। এছাড়া বিশ্বের ৪০ এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয় ড. কালামকে।

চলবে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *