আল মামুন

একটি বাস ভ্রমণের গল্প

একটি বাস ভ্রমণের গল্প

যারা ঢাকা শহরে থাকেন বা বাইরে থেকে যারা কাজেকর্মে মাঝে মাঝে ঢাকায় আসেন তারা খুব ভালো করেই জানেন যে ঢাকা শহরে সাধারণভাবে চলাচল করা কতো কষ্টকর। প্রচণ্ড যানজটের শহর ঢাকা। বলা যায়, কার্যত স্থবির এক নগরী। এখানে কখনো এমন হয় যে একই দূরত্বে কোনো যানবাহনে যেতে যতো সময় লাগে সেই একই দূরত্বে হেঁটে যেতে সময় লাগে আরও কম!

ঢাকায় যেদিন কোনো ভিভিআইপি চলাচল করে কিংবা যদি কোনো সভা সমাবেশ বা বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি থাকে তাহলে তো কথাই নেই— সারা পথ আপনাকে হেঁটেই যেতে হবে, আপনি শহরের যেখান থেকে যেখানেই যেতে চান না কেনো!

সেখানে বাংলাদেশের মন্ত্রীরা বাসে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন কিংবা মোটর সাইকেলে চড়ে অফিস যাচ্ছেন এটা ভাবাই যায় না! এমন নজির তেমন একটা নেই। চিরায়ত সেই ঐতিহ্য ভেঙে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যরা মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বাসযোগে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে। বুধবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে তারা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশে গিয়েছেন বাসে চড়ে, বিষয়টা ভালো লাগার মত।

মোটরসাইকেলে চড়ে অফিসে যাচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত

কারণ তারা চিন্তা করেছেন যে, যানজটের এই নগরী থেকে ৪৬-৪৭ মন্ত্রীর গাড়ি বহর, তাদের প্রটোকলসহ যদি ঢাকার বাইরে যায়, বা ঢাকার মধ্যেই কোনো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায় তাহলে তাদের জন্য সাধারণ জনগণের যে কী পরিমাণ দুর্ভোগ হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। তাই তারা কী করলেন— প্রাইভেট কারে যাতায়াত না করে বেছে নিলেন বাস। এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বুধবার সকাল দশটার দিকে মন্ত্রীদের বহনকারী বাসগুলো ঢাকা থেকে রওনা দেয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে যান গোপালগঞ্জে।

মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত পতাকাওয়ালা গাড়ি সোমবার শপথের আগেই তাদের ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সাভারে যাওয়ার সময় সেই গাড়ি সঙ্গে নেননি তারা। ঢাকা থেকে তারা চারটি বাসে করে স্মৃতিসৌধে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *