আল মামুন

বঙ্গবন্ধুর জীবনপঞ্জি

বঙ্গবন্ধুর জীবনপঞ্জি

১৯২০ : গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯২৭ : সাত বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেখ মুজিবের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রজীবনের সূচনা হয়।
১৯২৯ : বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জ সীতানাথ একাডেমির (পাবলিক স্কুলে) তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
১৯৩৪ : মাদারীপুরে ইসলামিয়া হাইস্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন।
১৯৩৭ : অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধুর লেখাপড়া বন্ধ ছিল, আবার তা শুরু হয়।
১৯৩৮ : বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৬ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
১৯৩৯ : সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করার দুঃসাহসের কারণে বঙ্গবন্ধু প্রথম কারাবরণ করেন।
১৯৩৮ : মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বেগম ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৪২ : অসুস্থতার কারণে একটু বেশি বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু এন্ট্রাস (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই বছরেই কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজের বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে তিনি থাকতে শুরু করেন।
১৯৪৪ : কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন। এই বছরই ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিযুক্ত হন।
১৯৪৬ : বঙ্গবন্ধু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কলকাতা ইসলামি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারি নিযুক্ত হন। এই বছরই প্রদেশিক নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৭ : বঙ্গবন্ধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
১৯৪৭ : ৬ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুব কর্মীদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
১৯৪৮ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন।
১৯৪৮ : ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
১৯৪৮ : ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বানকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।
১৯৪৮ : ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।
১৯৪৮ : ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধু আবার গ্রেফতার হন।
১৯৪৯ : ২১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।
১৯৪৯ : ৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার প্রতি সমর্থন জানান।
১৯৪৯ : ২৯ মার্চ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে অযৌক্তিকভাবে জরিমানা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার প্রতি সমর্থন জানান।
১৯৪৮ : ২০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৪৯ : ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৪৯ : ২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
১৯৪৯ : পূর্ববাংলায় দুর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবিতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৫০ : ১ জানুয়ারি এই আন্দোলনের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৫২ : ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন।
১৯৫২ : ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চলে। শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেকে। জেল থেকে বঙ্গবন্ধু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন এবং একটানা তিনদিন অব্যাহত রাখেন।
১৯৫২ : ২৭ ফেব্রুয়ারি টানা অনশনে অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৫৩ : ১৬ নভেম্বর প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলীম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৩ : ৪ ডিসেম্বর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সব বিরোধী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
১৯৫৪ : ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে বিজয়ী হন।
১৯৫৪ : ২ এপ্রিল, যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
১৯৫৪ : ১৪ মে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায়কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
১৯৫৪ : ৩০ মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করেন। বঙ্গবন্ধু এ দিনই করাচি থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন।
১৯৫৪ : ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জামিনে মুক্তি পেলে জেল গেটেই তাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৫৪ : বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।
১৯৫৫ : ৫ জুন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৫ : ১৭ জুন ঢাকার পল্টনের জনসভা থেকে বঙ্গবন্ধু প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত¡শাসন দাবি করেন।
১৯৫৫ : ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন ধর্মনিরপেক্ষতা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৮ : ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর ওপর আক্রমন এবং তার মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
১৯৫৮ : ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
১৯৫৯ : ৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান কিন্তু তার গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময় তিনি বারবার গ্রেফতার হন এবং মুক্তি পান।
১৯৬২ : ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন।
১৯৬৪ : ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবত করা হয়।
১৯৬৪ : ৫ ও ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়।
১৯৬৪ : ২৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল কঅপ (কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি গঠিত হয়।)
১৯৬৫ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কঅপ-এর পক্ষ থেকে মিস ফাতিমা জিন্নাহকে প্রার্থী দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু ফাতিমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৬৬ : ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ছয় দফা গৃহীত হয়। এরপর তিনি ছয় দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন এ সময় তাঁকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বারবার গ্রেফতার করা হয়। তিন মাসে তিনি আট বার গ্রেফতার হন। শেষবার তাঁকে গ্রেফতার করে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়।
১৯৬৮ : ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
১৯৬৮ : ২৮ জানুয়ারি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। এই বিবৃতি পড়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও তাঁর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দালন গনঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ছাত্রসমাজ ছয় দফার সমর্থনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে।
১৯৬৯: ৩০ জানুয়ারি উদ্ভুত পরিস্থিতি ঠেকাতে আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তানি জান্তা সরকার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন।
১৯৬৯ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধভাঙা বন্যার মতো রাস্তায় নেমে আসে।
১৯৬৯ : ২২ ফেব্রুয়ারি তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সরকার ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ শিরোনামে মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৬৯ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ডাকসু এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে এক বিশাল সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করে। ওই সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
১৯৬৯ : ১০ মার্চ রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। গোলটেবিলে ছয় দফার পক্ষে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় অবস্থান নেন। তবে ওই বৈঠক ব্যর্থ হয়।
১৯৬৯ : ২৫ মার্চ রাওয়াল পিন্ডি গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষিতে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি করেন।
১৯৬৯ : ২৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে এক বেতার ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ এর ১ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ওই বছরের শেষ ভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথাও ঘোষণা করেন।
১৯৭০ : ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথম দিন থেকেই ছয় দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন।
১৯৭০ : ৪ জুন নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হোটেল প্রাঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১৯৭০ : ৫ জুন পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসন আর জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসন নির্দিষ্ট করা হয়।
১৯৭০ : ১৫ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর।
১৯৭০ : ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। স্মরণীয় যে, ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো নৌকা।
১৯৭০ : ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। তিনি বলেন, প্রতিক‚ল অবস্থার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম। তার সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের বিকাশ। তিনি দেশবাসীর কাছে ছয় দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান।
১৯৭০ : ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০-১২ লাখ মানুষ মারা যায়। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি চরম উদাসীনতা তুলে ধরেন। এই সময় ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেনো’ শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোস্টার জাতিকে নাড়া দেয়।
১৯৭০ : ৭ ডিসেম্বর বন্যা-দুর্গত এলাকা বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন।
১৯৭০ : ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান ২৯৮টি আসন লাভ করে।
১৯৭১ : ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ছয় দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন তথা ছয় দফা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ এই রবীন্দ্র সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সংগীতের পর ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। গানটি পরিবেশিত হয়।
১৯৭১ : ১০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেন। চারদিন পর ফিরে আসার সময় তিনি বলেন, শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
১৯৭১ : ২৭ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেন। কিন্তু ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়।
১৯৭১ : ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি ঘোষণায় বলা হয়— প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
১৯৭১ : ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বাণীতে। ওই দিনই আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পরে। বিক্ষুদ্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহ্বান করেন।
১৯৭১ : ২ মার্চ ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বতঃস্ফুর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে ঢাকা পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। জান্তা সরকার ঢাকা শহরের পৌর এলাকায় সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন।
১৯৭১ : ৩ মার্চ বিক্ষুদ্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান তিনজন, আহত হন কমপক্ষে ৬০ জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে।
১৯৭১ : ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষণে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন।
১৯৭১ : ১৬ মার্চ বিস্ফোরণমুখ বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেতার দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু তার গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান।
১৯৭১ : ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেন। সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।
১৯৭১ : পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালো রাত্রি ২৫ মার্চ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারটায় শুরু হয় অপারেশন সার্চ লাইট। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা।
১৯৭১ : ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাবার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামের জহুরুল আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী স্বকণ্ঠে প্রচার করেন। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে অবস্থিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ওই ঘোষণা পুনরায় পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯৭১ : ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালি গড়ে তোলে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবজ্জল অধ্যায়।
১৯৭১ : ১৭ এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবের পাড়ার (বৈদ্যনাথ তলা) আমবাগানে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন আজ থেকে (১৭ এপ্রিল) বৈদ্যনাথতলার নাম মুজিবনগর এবং অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
১৯৭১ : ২৫ মে ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সংগঠিত হয় প্রবাসী সরকার। ২৫ মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয়। এই কেন্দ্রের সিগনেচার টিউন ছিল জয় বাংলা বাংলার জয়। কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারিত হতে থাকে। এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘শোনো একটি মুজিবরে কণ্ঠে’ গানটি বাঙালির উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭১ : ৩ আগস্ট পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয় ১১ আগস্ট থেকে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হবে। এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইডকে ইসলামাবাদে পাঠান। কিন্তু পাকিস্তানি জান্তা সরকার বিদেশি আইনজীবী নিয়োগে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।
১৯৭১: ১০ আগস্ট পাকিস্তানি জান্তা সরকার বঙ্গবন্ধুর পক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী একে ব্রোহিকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যখন ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ভাষণের টেপ শোনানো হয় তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকার করেন এবং ব্রোহিকে অব্যহতি দেন। জাতীয় ও আন্তজার্তিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন বস্তবতা স্পর্শ করতে থাকে।
১৯৭১ : ১১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়ার সঙ্গে ছিলেন ভুট্টো এবং জেনারেল আকবর। ইয়াহিয়া করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধু বলে দুঃখিত ও হাতে বাঙালির রক্ত লেগে আছে ও হাত আমি স্পর্শ করবো না। এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগুতে থাকে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
১৯৭১ : ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন লায়ালাপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর সংগে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওই সমঝোতা প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন।
১৯৭১ : ১৬ ডিসেম্বর ত্রিশ লাখ শহিদ এবং তিন লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আসে আমাদের বিজয়। বাঙালি জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে। কিন্তু মুক্তির অপূর্ণতা রয়ে যায় স্বাধীনতার স্থাপতি তখন নির্জন কারাগারে।
১৯৭২ : ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে ঘোষণা করেন শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হবে।
১৯৭২ : ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইয়ের একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠানো হয়। ভোরে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌছেন। তার হোটেলের সামনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই।
১৯৭২ : ১০ জানুয়ারি সকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের আগ্রহে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমান বাহিনীর এক বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু নয়াদিল্লি পৌছালে রাষ্ট্রপতি ভি.ভি. গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধু বলেন অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় হয়েছে। ওই দিন বিকেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। লাখো মানুষের জনস্রোত, বাঁধভাঙা আবেগে অশ্রুসিক্ত জাতিরপিতা বলেন আজ আমার জীবনের স্বাদপূর্ণ হয়েছে। ওই দিন জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু হৃদয়কাড়া এক ভাষণ দেন। ওই রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৭২ : ১২ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
১৯৭২ : ১২ মার্চ স্বাধীনতার মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।
১৯৭২ : ২৬ মার্চ শোষণহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়।
১৯৭২ : ২০ এপ্রিল শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
১৯৭২ : ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। এ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, বিজয়ের ৯ মাসের মধ্যে শাসনতন্ত্র দেওয়া, মানুষের মৌলিক অধিকার দেওয়ার অর্থ হলো জনগণের ওপর বিশ্বাস করি।
১৯৭২ : ১৬ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়। বাতিল করা হয় গণপরিষদ।
১৯৭২ : ৭ মার্চ নতুন সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতির জনকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০টির মধ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।
১৯৭৩ : ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়।
১৯৭৪ : ২৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙালি নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিণষষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন।
১৯৭৫ : ২৫ জানুয়ারি দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
১৯৭৫ : ২৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এক ডিক্রির মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল নামে একটি নতুন একক রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৭৫ : ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শহীদ হন।

তথ্যসূত্র:
●অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
●কারাগারের রোজনামচা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
●আমার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা।
●বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ—বাংলাপিডিয়া
●বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা, মোস্তফা কামাল।
●আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, আবুল মনসুর আহমদ।
●আওয়ামী লীগ-উত্থানপর্ব, মহিউদ্দিন আহমদ।
●Bangladesh : Quest for freedom and justice, UPL, Dhaka, Kamal Hossain.
●বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ১৯৮২, ঢাকা।
●আওয়ামী লীগের ইতিহাস : ১৯৪৯-১৯৭১, আবু আল সাঈদ।
●দৈনিক পাকিস্তান, ৬ নভেম্বর, ১৯৭০; ২ নভেম্বর ১৯৭০।
●দৈনিক আজাদ, ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০।
●নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল, সিদ্দিক সালিক।
●শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, শামসুজ্জামান খান, কথাপ্রকাশ।
●স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু : প্রাসঙ্গিক ভাবনা-এইচটি ইমাম, জার্নিম্যান বুক্স, ২০১৮।
●জাতীয় রাজনীতি : ১৯৪৫-৭৫, অলি আহাদ, চতুর্থ সংস্করণ ২০০৪, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লি.।
●দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ, অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, দ্বিতীয় বাংলা সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৯০, অনুবাদ : রনাত্রি, পপুলার পাবলিশার্স।
●বঙ্গবন্ধুর বেড়ে ওঠা, সৈয়দ নূরুল আলম, বার্তা২৪ ডটকম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০।
●ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান, আমাদের সময়, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
●জাতীয় রাজনীতি : ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫, অলি আহাদ।
●ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, গাজীউল হক; ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪।
●শেখ মুজিব থেকে যেভাবে বঙ্গবন্ধু হলেন, তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশে প্রতিদিন, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
●ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে একাত্তরের ২৫ মার্চ, প্রথম আলো, স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা-২০০৮।
●বঙ্গবন্ধু ভাষা ও মন, শেখ সাদী, কথাপ্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০১৪।
●পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু, রবার্ট পেইন, অনুবাদ : ওবায়দুল কাদের, শিখা প্রকাশনী, ১৯৯১।
●শেখ মুজিব যখন পাকিস্তানে বন্দি, তিতু চৌধুরী, জেবুন্নেসা প্রকাশনী, ১৯৯১।
●একাত্তরে বন্দি মুজিব, পাকিস্তানে মৃত্যু যন্ত্রণা, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সূচীপত্র, ২০১১।
●পাকিস্তানের কারাগারে শেখ মুজিবের বন্দিজীবন, আহমেদ সালিম। মফিদুল হক অনূদিত, সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৯৮।
●উইটনেস টু সারেন্ডার, কর্নেল সিদ্দিক সালিক।
●স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, বেলাল মোহাম্মাদ।
●মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস, মেজর জেনারেল এম এস এ ভঁ‚ঞা, আহমেদ পাবলিশিং হাউস, চতুর্থ সংস্করণ, ১৯৯৬।
●আ টেল অব জিনিয়াস, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম।
●ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি, বদরুদ্দীন উমর।
●প্রথম আলো, বিশেষ সংখ্যা, ১৭ মার্চ ২০২০।
●বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সিরাজউদ্দীন আহমেদ।
●বাংলাদেশ : শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, মওদুদ আহমদ, ইউপিএল। অনুবাদ : জগলুল আলম।
●যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে, যুগান্তর, ১৭ আগস্ট ২০১৭।
●মুজিব হত্যার চক্রান্ত, আশফাক আলম স্বপন, ত্রিধারা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮।
●তিনটি সেনা অভুত্থান এবং না বলা কিছু কথা, লে. ক. (অব.) এম এ হামিদ পিএসসি।
●বঙ্গবন্ধুর প্রেরণার উৎস বঙ্গমাতা, এসকে রেজা পারভেজ, রাইজিংবিডি, ৭ আগস্ট ২০১৭।
●বঙ্গবন্ধুর নেপথ্যে অনন্য বঙ্গবন্ধু, আশরাফুল ইসলাম, খোলাকাগজ, ৩ এপ্রিল ২০১৯।
●মুজিব ভাই, এবিএম মূসা।
●ধীরে বহো বুড়িগঙ্গা, আবদুল গাফফার চৌধুরী।
●শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু, বিশেষ সংখ্যা, কালের কণ্ঠ, ১৩ জানুয়ারি ২০২০।
●বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ, শামসুজ্জামান খান, কথাপ্রকাশ, ২০১৮।
●সত্তরের নির্বাচন থেকে একাত্তরের অসহযোগ, সেলিনা হোসেন, প্রথম আলো বিশেষ সংখ্যা, ১৭ মার্চ ২০২০।
●জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে যা নেব, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রথম আলো, ১৭ মার্চ ২০২০।
●বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন, মোকাম্মেল হোসেন, যুগান্তর ১৭ মার্চ ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *