আল মামুন

মুজিবনগর সরকার

মুজিবনগর সরকার

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের ‘স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ’ অনুয়ায়ী সেদিনই স্বাধীন ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয়। এই সরকার ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, সেহেতু ২৬ মার্চ থেকেই স্বাধীনতা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ল’স কন্টিনিয়ান্স এনফোর্সমেন্ট অর্ডার জারি করা হয়। এই সময়টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীকে অর্থ, জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্য শিল্প ও পরিবহণ মন্ত্রণালয়, খন্দকার মোশতাক আহমেদকে পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয় এএইচএম কামরুজ্জামানকে দেওয়া হয়। এছাড়া কর্নেল (অব.) এমএজি ওসমানীকে সেনাবাহিনী প্রধান (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর ছিল তখন হানাদার মুক্ত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল জেলার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং আইনসভার সমস্যদের উপস্থিতিতে স্বাধীন ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ তথা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মন্ত্রিপরিষদের শপথের পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আইনসভার সদস্য ও প্রখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা সংসদীয় দলের চিফ হুইফ অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে সদ্য গঠিত সশস্রবাহিনীর কিছু সৈন্য নিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন মেজর এমএ ওসমান চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান।

মুজিবনগর সরকারের কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল থেকে। এ ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। ওইদিন থেকে বৈদ্যনাথতলার এই স্থানের নাম দেওয়া হয় মুজিবনগর।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *