আল মামুন

শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে। তাঁর মুক্তিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার মানুষ। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ এবং মওলানা ভাসানী এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবসহ সকল বন্দীদের মুক্তির দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সরকার। গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।

শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের ৬৭৭ নম্বর বাসভবনে প্রবেশের সাথে সাথেই হাজারো ছাত্র-জনতা সেখানে উপস্থিত হয়। শেখ মুজিবকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে জনগণ। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখবে বলে শুধু ৩২ নম্বর নয়, সারা ঢাকা শহরের রাজপথে তখন লাখ লাখ মানুষের ঢল। এই অবস্থায় তাঁকে ছাত্র-জনতা ট্রাকে তুলে শহিদ মিনারের দিকে নিয়ে যায়। শেখ মুজিব তখন জনতার উদ্দেশ্যে বলেন— ‘মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করিতে গিয়া যে সূর্য-সন্তানেরা অকালে হৃদয় নিংড়ানো রক্তে রাজপথ রাঙাইয়া গেলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা আমার নেই। আজকের দিনে কোটি কণ্ঠের সঙ্গে মিলাইয়া আমিও বলি, জয়, ছাত্র-জনতার জয়।’

পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গণআন্দোলনের বিজয়ে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেয়। এই সংবর্ধনায় তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তৎকালীন ভিপি তোফায়েল আহমেদ। সেদিন থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাংলার ‘বন্ধু’ তথা ‘বঙ্গবন্ধু’।

এ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২৩ ফেব্রুয়ারি সমগ্র বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। সেদিন রেসকোর্স ময়দান ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ। সেই জনসমুদ্রের মানুষকে যখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যে নেতা জীবন-যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন, সেই প্রিয় নেতাকে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে একটি উপাধি দিতে চাই। ১০ লাখ মানুষ যখন ২০ লাখ হাত উত্তোলন করেছিল সেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। তখনই প্রিয় নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করি।’

শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাঙালি জাতিরই মহান নেতা ছিলেন না, সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *