আল মামুন

রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া

রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া

কিশোর বয়স থেকেই শেখ মুজিবের ভেতর দেখা গিয়েছিল অস্বাভাবিক নেতৃত্বগুণ। খুব সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতেন তিনি। মানুষের প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচারই সহ্য করতে পারতেন না শেখ মুজিব। প্রবল সাহস ছিল তাঁর। তিনি অন্যায়কারীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতেন, করতেন প্রতিবাদ। ছোট্ট খোকা প্রতিবাদের সেই ভাষা আত্মস্থ করেছিলেন সেই ছোটবেলায়ই। রাজনীতিতে শেখ মুজিবের প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল মিশনারি স্কুলে পড়ার সময়ে।

স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই শেখ মুজিবের সাথে যোগাযোগ গড়ে ওঠে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। তাঁর রাজনৈতিক নেতা সোহারাওয়ার্দীর সাথে পরবর্তীকালে সে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সোহরাওয়ার্দীও আমৃত্যু স্নেহের দৃষ্টিতে দেখেছেন শেখ মুজিবকে। সোহারাওয়ার্দীর সাথে প্রথম পরিচয়ের বর্ণনা বঙ্গবন্ধুর তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে লিখেছেন এভাবে— ‘১৯৩৯ সালে কলকাতা বেড়াতে যাই। শহীদ সাহেবের সঙ্গে দেখা করি। আবদুল ওয়াসেক সাহেব আমাদের ছাত্রদের নেতা ছিলেন। তাঁর সঙ্গেও আলাপ করে তাঁকে গোপলগঞ্জে আসতে অনুরোধ করে শহীদ সাহেবকে বললাম, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করবো এবং মুসলিম লীগও গঠন করবো। খন্দকার শামসুদ্দিন সাহেব এমএলএ তখন মুসলিম ছাত্রলীগে যোগদান করেছেন। তিনি সভাপতি হলেন ছাত্রলীগের। আমি হলাম সম্পাদক। মুসলিম লীগ গঠন হলো। একজন মোক্তার সাহেব সেক্রেটারি হলেন, অবশ্য আমিই কাজ করতাম। মুসলিম লীগ ডিফেন্স কমিটি গঠন করা হলো। আমাকে তার সেক্রেটারি করা হলো। আমি আস্তে আস্তে রাজনীতির মধ্যে প্রবেশ করলাম। আব্বা আমাকে বাধা দিতেন না, শুধু বলতেন, লেখাপড়ার দিকে নজর দেবে।… কয়েক বৎসর অসুস্থতার জন্য নষ্ট করেছি। স্কুলেও আমি ক্যাপ্টেন ছিলাম। খেলাধুলার দিকে আমার খুব ঝোঁক ছিল।’

কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা শুরু করার পর গভীরভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন শেখ মুজিব। সে সময়ে ব্রিটিশদের হাত থেকে উপমহাদেশকে মুক্ত করতে আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠতে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন। এতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন তিনি, সরাসরি পাকিস্তান অংশ নেন। এ সময় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন শেখ মুজিব। এরপরে মুসলিম লীগ নেতারা শেখ মুজিবের হাতে তুলে দেন সমগ্র ফরিদপুর জেলার দায়িত্ব। পরবর্তীতে এ অঞ্চলসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে মুসলিম লীগের প্রচারণায় নিজেকে ব্যস্ত করে তোলেন তিনি।

১৯৪৮ সালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন ১৫০ মোগলটুলিতে গণতান্ত্রিক যুবলীগ অফিসের দোতলায় শওকত মিয়ার সাথে। আইন বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকায় এসেই গণতান্ত্রিক যুবলীগের সাথে যুক্ত হন শেখ মুজিব। এখানেই ঘনিষ্ঠতা হয় শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কমরউদ্দিন আহমদ, নঈমুদ্দিন আহমদ, তাজউদ্দিন আহমদ এবং অলি আহাদের সাথে। ওই সময় পূর্ববাংলায় রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে পাকিস্তান সরকারের সাথে প্রগতিশীল ছাত্রনেতাদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। তরুণ ছাত্রদের বিদ্রোহী করে তোলে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি শেখ মুজিব নঈমউদ্দিন আহমদ গঠন করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *