আল মামুন

নির্ভেজাল একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারাই সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা

নির্ভেজাল একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারাই সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা

২০/২২ বছর বয়সটা সত্যিই অন্য রকম। খুব উপভোগ্য। জীবনকে তখন আর জীবন মনে হয় না, মনে হয় স্বপ্নের জগতে আছি। এই বয়স, এই তারুণ্য যেমন আছে তেমনই থাকবে।

কিন্তু তা আর থাকে না। জীবন মুহূর্তেই ফুরিয়ে যায়। একটু একটু করে এমন একটা সময়ের দিকে এগিয়ে যায় যে, যে সময়টা বা বয়সটা থাকে অসহায়াত্বে ঘেরা, যে বয়সটায় থাকে না তারুণ্যের উচ্ছ্বলতা।
হঠাৎই আমাকে বলতে গেলে সেরকম একটা বয়সে আবিস্কার করে ফেললাম। কখন যে কৈশোর-তারুণ্য পেরিয়ে মধ্য বয়স অতিক্রম করে গেছি, টেরই পাইনি। মনে হয় দীর্ঘ একটা ঘুম শেষে উঠে দেখি আমার এই অবস্থা।
জীবন খুবই ছোট্ট একটা সময়। অল্প ক’টা দিনের মাত্র। এটা মানুষ উপলব্ধিই করতে পারে না, বা উপলব্ধি করতে চায়ও না।
জীবনের যে দিনগুলো পার করে এসেছি, হলফ করেই বলতে পারি, জেনেশুনে খুব বেশি করিনি। আমি তো আমাকে চিনি, আমার সম্পর্কে জানি। সারাজীবন সৎ থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। অর্থবিত্ত-সংসারের মোহে পড়িনি।
কারো সাথেই প্রতারণা বা ঠকবাজি করিনি। কাউকে ঠকাইনি। আমার জানা মতে আমি কারো ক্ষতি করিনি। সর্বদাই সত্য বলার চেষ্টা করেছি। মানুষের সাথে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। ধারদেনা করলেও নির্ধারিত সময়েই তা শোধ করার চেষ্টা করেছি।
কেউ যখন সেধে টাকা ধার দেয় আর বলে, তোমাকে টাকা দিলে আমার টাকা নিরাপদ থাকে, চাইতে হয় না তার আগেই পাই; মেসের রুমমেট যখন অন্য রুমমেটদের কাছে গিয়ে আমার বিষয়ে বলে, বিশ বছর ধরে ঢাকায় মেসে থাকি, অথচ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রুমমেট হিসেবে অমুককে পাইছি; মেসে বরিশাল-নোয়াখালীর মানুষদের সিট পাওয়া একটু কঠিন। সেখানে যখন কেউ বলে, ভাই, আপনার মতো বরিশাইল্লার সাথে থাকতে আমাদের সমস্যা নেই। তখন আমার সত্যিই চারিত্রিক সার্টিফিকেট পাওয়া হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের এই কথার চেয়ে আর বড় কোনো চারিত্রিক সার্টিফিকেট লাগে না জীবনে।
আজ এসব কথা বলার কারণ, আজ ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করলাম। বড় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও বয়স যে অনেকটাই বেড়ে গেছে সেটা উপলব্ধি করলাম। আর বয়স বাড়তে থাকলে যে নানা অসুখ বিসুখ উঁকি মারতে থাকে সেটাও বোঝলাম।
মানুষের জীবনটা খুবই ছোট্ট। ছোট্ট এই জীবনে আমার কোনো অর্জন নেই, নেই কোনো সফলতাও। তবু কোনো আফসোস বা আক্ষেপ নেই। নির্ভেজালভাবে একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারাই সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *